ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দিনরাত নিয়ম করে যাঁরা খান, তাঁরা কিন্তু যে কোনও সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই পেতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি। টানা অফিস করে ক্লান্ত লাগছে, মাঝে মাঝেই সর্দি কাশি জ্বরে বিছানা নিতে হচ্ছে। এসব থেকে অনেকেই মনে করেন, শরীরে ঘাটতি হওয়া ভিটামিনের অভাব মেটানোর একমাত্র উপায় বুঝি ভিটামিন সাপ্লিমেন্টস্। মেয়েদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট। তিরিশের পর থেকে নানারকম সমস্যা তাঁদের পিছু ছাড়ে না, যার মধ্যে ভিটামিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা ভুঁড়ি ভুঁড়ি।

পথেঘাটে যখন কোনও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট-এর রমরমা বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে তখন নিজের শরীরকে ঠিক করতে সাপ্লিমেন্টসে ভরসা আসাই স্বাভাবিক। কিন্তু ডায়েটারি গাইডলাইনস অফ আমেরিকা বলছে, ‘ আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলো নিত্যদিনের প্রাথমিক খাবার থেকেই আমাদের সংগ্ৰহ করা উচিত। সাপ্লিমেন্টস এর অতিরিক্ত ও দীর্ঘকালীন ব্যবহার শরীরে সোডিয়াম ও অন্যান্য লবণের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।’ আসলে আপনার প্রতিদিনের খাবারই ভিটামিনের সমাহার। নিয়মিত বাজার থেকে কিছু চেনা শাকসব্জি, মাছ, প্রাণীজ খাবার কিনলে আপনি শরীরকে সহজেই চাঙ্গা করে নিতে পারবেন দু’দিনে।

১।ভিটামিন এ যাঁদের ত্বক খসখসে, ত্বকের সমস্যায় অনেকদিন ধরে ভুগছেন, চোখের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল, ভিটামিন এ কিন্তু তাঁদের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে নিশ্চিতভাবে। যে কোনও সবুজ শাকসবজি বিশেষত গাজর, পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ উপস্থিত। যাঁরা আমিষাশী তাঁদের জন্য রয়েছে ডিমের কুসুম, হাঙ্গরের যকৃতের তেল। ভিটামন এ-র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হল স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধেও এর অবদান আছে।

২। ভিটামিন বি অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় ভুগছেন এমন লোকের সংখ্যা সারা ভারতেই অনেক। এর জন্য কিন্তু ভিটামিন বি এর ঘাটতি দায়ি। বি ১২-এর অভাব এর মূল কারণ। ভিটামিন বি-ও পাওয়া যায় প্রতিদিনের খাবারে। কড়াইশুটি, পাকা কলা, অঙ্কুরিত ছোলা, আটার রুটি, বার্লি, ডাল, সব্জিতে ভিটামিন বি খুব সহজেই পাওয়া যায়। শাকসব্জিতে যাঁরা নাক কুঁচকান তাঁদের জন্য আছে ডিম, মাছ, দুধ।

৩। ভিটামিন সি পাতিলেবু নিয়ম করে খেতে পারেন রোজ। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধক শক্তি বাড়ে। রোদজলে সহজেই শরীর খারাপ হয়ে যাওয়া কিন্তু ভিটামিনের সি-এর অভাব। আর সেটা মেটাতেই দরকার সাইট্রিক এসিড যা পাবেন পাতিলেবু থেকে। এছাড়াও আমলকী, পেয়ারা, কমলালেবু থেকেও পাবেন। এগুলো সবই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, ত্বককেও ভালো রাখে।

৪। ভিটামিন ডি মহিলাদের হাড়ের সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা তো খুব সাধারণ ব্যাপার। ভিটামিন ডি-এর অভাবই এর জন্য দায়ী। অল্পেতেই টেনশন, হওয়া, ঘাম হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়ার পিছনেও একই কারণ। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় রোজের সবুজ টাটকা সব্জি, ডিমের কুসুম, মাখনে।

৫। ভিটামিন ই রক্তে আয়রন কমে যাচ্ছে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে? ভিটামিন ই আপনার শরীরে কম। যে রান্নার তেল কেনেন তাতেই আপনি পেতে পারেন শরীরের এই প্রয়োজনীয় সদস্যকে। বাদাম নিয়ম করে খেলে এধরনের রোগ আর ছুঁতে পারবে না আপনাকে। কারণ বাদামেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মেলে এই উপকরণটি।

পাঁচ রকম প্রয়োজনীয় ভিটামিন যা আপনার রোজ প্রয়োজন, তার উৎসগুলো আপনার নাগালের মধ্যেই। শুধু দরকার নিয়ম করে সাপ্লিমেন্টের বদলে সেগুলোকে থালায় সাজিয়ে নেওয়া। তা বলে কি সাপ্লিমেন্ট একেবারেই লাগে না? লাগে, তবে কিছু বিশেষক্ষেত্রে। কোনও বিশেষ পদ খাওয়া বন্ধ হলে ডাক্তারের পরামর্শে আপনাকে সাপ্লিমেন্টের পথ বাছতেই হবে। গর্ভবতী মহিলাদের যেমন ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট নেওয়া খুব প্রয়োজনীয়। বাচ্চারা যারা এসব শাকসবজি খেতে চায় না, বা একেবারে শিশুরা যারা এধরনের খাবার খেতে পারে না, তাদের জন্য সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন থেকেই যায়। অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সব খাবারই তরল লেই করে নিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ান যা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন মিটিয়ে দেয় অনেকাংশে। যারা গায়ে রোদ না লাগার মতো কাপড় পরেন, বাড়ি থেকে বেরোতে পারেন নানা কারণে, ভিটামিন ডি-এর সাপ্লিমেন্ট না নিলে তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু একজন সাধারণ সুস্থ মানুষকে তার প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলো পেতে সাপ্লিমেন্ট নিতে হয় না। এমনটাই মত বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের। কিছু সাপ্লিমেন্টে লবণের আধিক্য শরীরের ক্ষতিও করে। এতে হিতে বিপরীত হয়। তাই সুস্থ জীবনের জন্য প্রথমেই ভিটামিন সাপ্লিমেন্টস-এর কথা না ভেবে হেঁসেলের রকমফের নিয়ে ভাবতে পারেন। এতেই কিন্তু কেল্লা ফতে হয়ে যাবে।